Monday, January 10, 2022

সজিনার পুষ্টি গুনাগুন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার

 

সজিনা


বৈজ্ঞানিক নামMoringa oleifera Lamk.

ইংরেজি নামHorse Radish Tree

পরিবারMoringaceae 


অন্যান্য প্রচলিত নামঃ শোভাঞ্জন (সংস্কৃত), সজনে, সঞ্জিনা (বাংলা) শোয়ান্জন (হিন্দি)
উদ্ভিদের বর্ণনা : সজিনা আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ। সাধারণত এর ফলের জন্য প্রায় বাড়িতেই সজিনা লাগান হয়ে থাকে। এটি একটি বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ, প্রায় ৩০ ফুট বা তারও বেশি উঁচু হয়ে থাকে। কাঠ অত্যন্ত নরম, বাকল আঠাযুক্ত কর্কি। পাতা ত্রি-পক্ষল যৌগিক, উপপত্র বিহীন, একাত্তর। পত্রক - জোড়া, প্রতিমুখ। মঞ্জুরী কাক্ষিক রেসিম। পুষ্প সাদা, একপ্রতিসম এবং উভয়লিঙ্গ। বৃত্যংশ ৫টি, পাপড়ি ৫টি, পুংকেশর ৫টি, স্ত্রীকেশর ৩টি। ফল লম্বা ক্যাপসিউল। বীজ পক্ষল। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফূল হয়। এর শাখার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করা হয়।
সাধারণ গুণ : সজিনা কটু-তিক্ত-কষায় রস, লঘু, রুচিকারক, ধারক, মুত্রকর, শুক্রবর্ধক, বাত ব্যথা নাশক, চক্ষুর হিতসাধন, কফ, হাঁপানি, শোথ, ক্রিমি, প্লীহা, গলগণ্ড, ব্রণ প্রভৃতি রোগে হিতকর। এটি হজমকারক রক্ত পরিষ্কারক।
ব্যবহার্য অংশ : মূল, ছাল, আঠা, পাতা, ফুল ফল।

ফল

ব্যবহার শরীরের কোন স্থানে ব্যথা হলে বা ফোলে গেলে সজিনার শিকড় বেটে প্রলেপ দিলে ব্যথা এবং ফোলা সেরে যায়। শিকড়ের ক্বাথ খেলেও বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। শিকড়ের রস কানে দিলে কান ব্যথা ভাল হয়ে যায়। শিকড়ের রস গাভীর দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মূত্র অবরোধ দূর হয়, প্রস্রাব, বৃদ্ধি হয়, মূত্রপাথরী বের হয়ে যায় এবং শোথ রোগ সেরে যায়। এটি হাঁপানি, স্বরভঙ্গ, গলার ভিতরকার ক্ষত নিবারক।

খুঁড়িকাশি, হাঁপানি গেঁটেবাত, কটি মূল, বাত, প্লীহা লিভার বৃদ্ধি প্রভৃতি রোগে শিকড়ের ক্বাথ দুধের সাথে ব্যবস্থা করা হয়। শিকড়ের টাটকা রস এবং সরিষা (: ২০ ভাগ) এক আউন্স মাত্রায় খেতে

 

দিলে প্লীহা লিভার বৃদ্ধিজনিত শোথ রোগ আরাম হয়। সজিনা পাতার ক্বাথ পরিমাণ মত পান করলে শরীরের যাবতীয় ফোলা সেরে যায়। সজিনা পাতা পিষে তাতে রসুন, হলুদ লবণ গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে কুকুরের বিষ নষ্ট হয় পাতার এক পোয়া রস এক তোলা সৈন্ধব লবণের সাথে মিশিয়ে খেলে বহুমূত্র রোগ সেরে যায়। পাতার

শাক খেলে ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর যন্ত্রণাদায়ক সর্দি সেরে যায়। সজিনা পাতার রস পান করলে

হিক্কা রোগ ভাল হয়। পাতার রস স্কার্ভি রোগে ব্যবস্থা করা হয়। পাতার রসের সাথে লবণ মিশিয়ে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেটে জমা গ্যাস দূর হয়। পাতা বমনকারক।

চিত্র- : সজিনা



সজিনার ফুল কোষ্ঠকাঠিন্য দোষ দূর করে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, কফ, শ্লেষ্মা নির্গত করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, সর্দি-কাশি, হাঁপানি নিবারণ করে, মুখের ঘা, পিত্তদোষ দূর করে।

সজিনা ফুল দুধের সাথে রান্না করে নিয়মিত খেলে কামশক্তির বৃদ্ধি ঘটে।

এতে প্রস্রাব দোষও সেরে যায় কারণ এটি মূত্রকারক। ফুলের ক্বাথ দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মূত্রপাথরী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ফুলের কাথ হাঁপানি রোগে বিশেষ হিতকর। এর তরকারি খেলে সর্দি, কাশি আরাম হয় এবং এর চাটনী হজমশক্তি বৃদ্ধি করে।

সজিনার কচি ফল ক্রিমিনাশক, লিভার প্লীহাদোষ নিবারক। প্যারালাইসিস, টিটেনাস প্রভৃতি রোগে হিতকর। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়ার ব্যথার (গোঁটে বাত) এটি বিশেষভাবে উপকারী। কচি ফল নিয়মিত রান্না করে খেলেই পোঁটেবাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

সজিনার বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তা মালিশ করলে বিভিন্ন বাতবেদনা, অবশতা, আঁতুর, কটিশূল, সায়াটিকা, বোধহীনতা প্রভৃতি রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। বিভিন্ন চর্মরোগে এই তেল ব্যবহৃত হয়। সজিনার আঠা দুকের সাথে খেলে মাথাব্যথা সেরে যায়। আঠা কপালে মালিশ করলেও বাথা সেরে যায়। আঠা বিভিন্ন চর্মরোগে ব্যবহৃত হয়। 

ফোঁড়া,শরীরের ফোলা পিঠ প্রভৃতি স্থানে লাগালেও উপকার পাওয়া যায়। সজিনার ছাল উত্তেজক, মূত্রকর, কার্ডিরোগ নাশক। এর ক্বাথ সর্দি, কাশি, হাঁপানি প্রভৃতি রোগে বিশেষ হিতকর। ছালের স্থানীয় প্রলেপে স্নায়ুশূল, বাতবেদনা প্রভৃতি সেরে যায়।

গর্ভপাতকারক হিসেবে সজিনা : সজিনার ছাল গর্ভপাতকারক। এটি গর্ভাশয়ের মুখে প্রবেশ করালে গর্ভাশয়ের মুখ প্রসারিত হয়ে যায় এবং গর্ভপাত ঘটে। সজিনার আঠাও জরায়ুর মুখ প্রসারিত করে, তাই গর্ভপাত ঘটায়। হোমিওপ্যাথিতে সজিনা

সজিনা এখনও হোমিওপ্যাথিত অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে এটি হোমিওপ্যাথিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঔষধ হিসেবে প্রবেশ করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন শুধু সযত্ন প্রুভিং-এর।

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই সজিনা পাওয়া যায়। সজিনার ফল তরকারী হিসেবে খাবার জন্যই সাধারণত এটাকে অনেকের বাড়িতেই লাগানো হয়ে থাকে। গাছ থেকে ডাল কেটে লাগালেই নতুন গাছ হয়ে যায়।

No comments:

Post a Comment

সজিনার পুষ্টি গুনাগুন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার

  সজিনা বৈজ্ঞানিক নাম -  Moringa oleifera Lamk. ইংরেজি নাম -  Horse Radish Tree পরিবার -  Moringaceae   অন্যান্য প্রচলিত নামঃ শোভ...